শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৮

নীড়ের পাখি ফিরে ঘরে

সারাদিন উড়াউড়ি
দুটি ডানা ছোড়াছুঁড়ি,
মাঠে কাঠে ঠোকাঠুকি
নীড় বহু দূরে।
.....তবুও দিনের শেষে,
 শ্রান্তি ডানার ভরে
সারা আকাশ কালো করে
ক্লান্ত পাখি ফিরে ঘরে।

আধার কালো রাতে

আধার কালো রাতে,
যখন হাত রেখেছো হাতে।
সারাদিনের ক্লান্তি-জরা,
উড়িয়ে দিয়ে দূরে♦
রেশমি চুড়ির রিনি-ঝিনিতে
হৃদয় নিলে কেড়ে।♥♥

একেলা আকাশ

একলা আকাশ দাঁড়িয়ে ছিলো মুখ গোমড়া নিয়ে
বিশাল বপু ঢেকে ছিলো কালো চাদর দিয়ে
মিটমিটিয়ে তারার রানী জিজ্ঞাসিলো ওরে?
মুখটি তোমার কালো কেনো হাসি কোথায় দূরে?
আকাশ বলে বেশ হয়েছে জ্বালিও না মোরে আর
হাসি আমার বাসি হলো মনটা বেজায় ভার।
চাদের রাজা আইন করেছেন বন্দী সবাই বাড়ি
বুড়ি মাসী চড়কা কেটেই আমায় দিলো আড়ি।
......................................................................
এই ঘটনা, তারার রানি মুচকি হেসে বলেন
এক্ষুনি সব সঠিক হবে, আমার সাথে চলেন।
তিরতিরিয়ে তারার আলো চাদের বুকে এলো
তাদের দেখে রাজার বুকের পাষাণ গলে গেলো।

হঠাৎ করেই চাঁদের বুড়ির চরক গেলো কেটে
চাদের রাজার জোৎস্না মেয়ে নেমে এলো হেটে।
রুপালী সেই হাসির ছোয়ায় বাতাস গেলো থেমে।
ঝলমলে এক হাসির ফোয়ার আকাশ মুখে নামে।
..............

কালের ডাক

কালের ডাক

শুনিয়াছো তুমি? ডাকিছে কাহারা?
শত বছরের অত্যাচারে, বিষিয়াছে যাহারা।

চিৎকারে কেনো এতো, ভয়ানোক গর্জন ?
জন্ম থেকে মৃত্যু অধিকার, করিবে যে অর্জন।

আমারে কেনো ডাকে? কি ওরা চায়?
অন্তরে তব মরণ কামনা, সবার পিছে ধায়।

ক্ষুদ্র অতি সাহসে নারি, চিন্তিতে কি পারি
প্রানের অসুর শক্তি বলে, ভয়কে পায়ে দাবি।

কি আছে মোড়-কেমনে বাড়িবো? মনে সংশয়
চিৎকারিয়া কণ্ঠে কণ্ঠে, নিরস্ত্র হাতেরই জয়।

কি বলিতেছো যত্তো সব, হাসিয়াই মরি
তবে মানিয়া লও শোষক হাতে, পোষ্য গলার দড়ি।

সমুখে যাইয়া আবার, পদ নাহি চলে ভয়ে
ধ্বংসী বারের ডাক আসিয়াছে, কুড়োল মারো পায়ে।

কে তুমি? বলো কে তুমি? দুই চোখেতে আগুন
ধরণী মাতার দুলাল আমি,প্রিয়ার মনের ফাগুণ।

পাজরে জরায়ে শিতের আকাশ

পাজরে জরায়ে শীতের আকাশ

আমার পরাণ এত যারে চায়
তুমি নাই আজ তাই নিরালায়
কেমন করিয়া উদাসী হাওয়া
আচঁল কাপায়ে যায়।

নিমগ্ন মন বেদনাবিধুর
যাও তুমি প্রিয়ে যাবে কতদুর
ওখান থেকে দেখো ফিরায়ে নজর
আমারই পার্শে আমারই  সুদূর।

দেখেছি তোমায় সেই রাতে
পূর্ণ প্রেম আখিঁ  পাতে
পাজরে জরায়ে শীতের আকাশ
মৃদু মৃদু কাঁপে আমার সুখে।

নিয়তি চর নামে ঢেউ বহে
মোহিনী সুরে সুরে গাহে
ভালোবাসা তব শ্রেষ্ঠ সাধনা
মলিন হয় না ক্ষণিক ভূলে।

আবার হলো দেখা

আবার হলো দেখা

যাচ্ছি হেটে একা
হঠাত করেই তোমার সাথে,
 হয়ে গেলো দেখা।

হয়েছো একটু কালো
তবুও তোমার চোখে আছে
সেই পুরোনো আলো।

পাগল ছিলাম যায়।

মুখে আছে হাসির ঝিলিক
ঠোটের কোনায় ঘাম
যেঈ হাসিতে পাগল হয়ে
ভুলেছি কাজ-কাম।

ভুলেছিলে তুমিও, পড়াশোনা।

আগের মতই আছো তুমি
 হওনি কোনো মোটা।
শুকটি বলে তোমায় আমি
কত দিয়েছি খোটা!!!
কত তোমায় কাদিয়েছি
কত খেয়েছি ঝারি
রেগেমেগে শেষে তুমি
ঠিকই নিলে আড়ি।

আর ফিরলে না।
কেনো এমন হয়?

সেই পুরোনো কথা
ভেবে আবার নতুন করে
মনে পেলাম ব্যাথা।

ভাবছি বসে একা,
আবার কেনো তোমার সাথে
হয়ে গেলো দেখা?

আমি তরুন হতে চাই না


আজ বাংলাদেশের তরুনেরা নষ্ট হয়ে গেছে, ওরা পচে গেছে
আমি ওদের মতন হতে চাই না,আমি তরুন হতে চাই না।

এই তরুন সুকান্ত নজ্রুলের আদর্শ মানে না।
এরা কথায় কথায় সবার বদনাম করে,মারামারি করে, গালি দেয়।
আমি ওদের মতন হতে চাই না,আমি তরুন হতে চাই না।

হুজুর কিংবা পুজারী দের কাছে ব্যাকডেটেড
আর পাগল নাস্তিক ব্যাভিচারীরা দের রোল মডেল।
ছল চাতুরী ও লোকদেখানো কাজে এরা খুবই আধুনিক
 নীতি আদর্শে চলা মধ্যবিত্তের জীবন এদের কাছে আস্তকুড়ে।
আমি ওদের মতন হতে চাই না,আমি তরুন হতে চাই না।

এরা পকেট খরচের টাকা জোগারের জন্য জামাত করে
চাকুরী পাওয়ার জন্য ছাত্রলীগ করে
চাকুরী হয়ে  গেলে বিএনপি সেজে সরকারের বদনাম করে।
রাত জেগে ফেসবুকে প্রশ্ন খোঁজে
পরীক্ষায় চুরি করে এ-প্লাস পায়
তবুও নিজের মেধা না থাকার দায় মুক্তিযোদ্ধার উপর চাপিয়ে দেয়।
আমি ওদের মতন হতে চাই না,আমি তরুন হতে চাই না।

ইয়াবা কেনার টাকা না দেয়া বাবা এদের কাছে নিষ্কর্মা
সম্পত্তি লিখে দেবার পরে বৃদ্ধ মাকে ওরা বাঁশঝাড়ে ফেলে আসে।
দেশ পালানো শরীর দেখানো নায়িকাদের এরা ফলোয়ার।
কিন্তু রাতের আধারে প্রতিবেশি মহিলার অনাবৃত শরীর কল্পনা করে,তবেই ওরা তৃপ্ত হয়।  
এরা হারাম মানে না, হালালও খায় না, তাদের সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য ঘুষ আর কমিশন
ছেলেরা নিরিবিলি জায়গা খোঁজে, মেয়েরা খোঁজে মানিব্যগ
 এদের ভালোবাসা শরীর পর্যন্ত ,প্রেমের ভ্রমন লিটনের ফ্লাট পর্যন্ত
 এদের সংগ ভদ্র ছেলেকে পিশাচ বানায় আর ভদ্র মেয়েকে সর্বভোগ্য
আমি ওদের মতন হতে চাই না,আমি তরুন হতে চাই না।

শান্ত নম্র ব্যাক্তিরা এদের কাছে আঙ্কেল আর উদ্ভট বিকারগ্রস্থরা ফ্রেন্ড-ড্যূড।
যখন শরৎ চন্দ্রের বইয়ে পিপড়েরা বাসা বাঁধে
তখন গুগলে সার্চ দিয়ে ওরা পর্ন সাইট খোঁজে
আর আযানের সময় হেডফোনে শোনে ভিডিও বারবনিতার কামুক কন্ঠ।
মানবতার তরে জীবন উৎসর্গকারী ডাক্তারকে তারা কসাই ডাকে
নিজের সমস্ত বুদ্ধি খাটিয়ে জেল জরিমানা বাঁচানো উকিলকে চাপাবাজ
নিজের সমস্ত সৃষ্টিশীলতা দানকারী স্থপতি নাম পায় বাটপার
আর আত্মত্যাগে অন্যের নিরাপত্তা দানকারী পুলিশ হয় জানোয়ার।
আজ ওদের জন্যই আমার গায়ে বিকৃত তরুণের তকমা লেগেছে,
ওদের কারনে সবাই আমাকে, ওদেরই মতন ভাবছে।
 কিন্তু আমি ওদের মতন হতে চাই না,আমি তরুন হতে চাই না।