সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৬

তোষামোদির জয়

অভিসন্ধির ষড়যন্ত্রী বন্ধু সবার হবে
সত্যবাদীরর ভালো কথা কে শুনেছে কবে?
হিত চেয়ে হোক ন্যায্য কথা মুখটি কালো রবে
মিথ্যেবাদির তোষামোদি, সব্বাই খুশি হবে।

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৬

তোর হৃদয় বন্দরে

নিসংগতার কষ্ট ছিলো মনের অন্দরে,
ভিরলো আমার প্রেমের তরি তোর হৃদয় বন্দরে।
মনের জ্বালা মিটিয়ে দিলি কোমল পরশ দিয়ে,
সিন্দুসম দুঃখ গুলো গেলো হারিয়ে।
আড্ডাবাজী বন্ধুরা আজ  মনে হচ্ছে ফিকে,
মনের ঘড়ির প্রেমের কাটা ঘুরছে তোরই দিকে।
মন খারাপের যন্ত্রণারা পালিয়ে গেলো দূরে,
যেদিক তাকাই তোর চেহারাই আসে ঘুরে ফিরে।
বাউণ্ডুলে মনের সেতার দিচ্ছে সুরের তান।
বেসুরো এই ফাঁটা গলায় হচ্ছে মধুর গান।
হৃদয় আমার খুশিতে আজ ধিনাক তা ধিন নাচে
সকাল বিকাল সব ভাবনায় তোকে নিয়েই আছে।
ভালোবাসা তোর এতো যে জোর বুঝিনিতো আগে,
সাদা-কালো সব কিছু আজ রঙিন রঙিন লাগে।
কাজ-কর্ম সব ভুলে গিয়ে,
দুঃখগুলো ছুড়ে দিয়ে,
শত খুশি হাসির ঝিলিক প্রাণের অন্দরে।
ভিরেছে প্রেমের তরি তোর হৃদয় বন্দরে।

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১৬

পুদিনার গুণাগুণ


পুদিনার গুনাগুনঃ  ডাঃ খন্দকার লুতফর রহমান।

পরিচিতি:
উদ্ভিদের নাম : পুদিনা
স্থানীয় নাম : পুদিনা
ভেষজ নাম : Menha  Spicata
স্থানীয় নাম : Mint, Nana।
প্রজাতি: M. Spicata

ব্যবহৃত অংশ :
মূল, পাতা, কান্ড সহ সমগ্র গাছ

রোপনের সময় :
বছরের যে কোনো সময়।

মাটির ধরণ:
ভিজা পরিবেশে এবং আর্দ্র মাটিতে সবচেয়ে ভালো জন্মে।কান্ড সহ গাছটি ১৩ থেকে ১৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

বৃক্ষ পরিচিতি:
ছোট গুল্ম জাতীয়  বহু বর্ষজীবী গাছ। পাতা সবুজ, ডিম্বাকৃতি ও সুগন্ধী।
পুদিনা পাতা প্রাচীনকাল থেকেই বেশ জনপ্রিয় ভেষজ ওষুধ হিসেবে পরিচিত। বহু রোগে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুদিনা পাতা এক ধরনের সুগন্ধি ভেষজ গাছ। এই গাছের পাতা তরি-তরকারির সঙ্গে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার  হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় সব  দেশেই পুদিনার গাছ জন্মে। পুদিনা পাতায় ৩৭-৯৩% মেনথল পাওয়া যায়। যা বিভিন্ন পারফিউম, টুথ পেষ্ট, স্যম্পু ও সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গাছের বর্ণনা:
পুদিনার ভূগর্ভস্থ রাইজোম থাকে ও কান্ড শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট। পাতা গাঢ় সবুজ অথবা সবুজাভ ধূসর বা সবুজাভ হলদেটে হয়। পাতার প্রন্তভাগ কাঁটা কাঁটা ও পরস্পর বিপরীতে জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে।পুস্পদন্ডে সাদা বা পার্পেল রঙের ফুল গুচ্ছাকারে আসে। চারটি অসমান লুব সহ ফুল দ্বিখন্ডিত। ছোট ফল ৪ টি বীজ ধারণ করে। জাতভেদে ১৩-৩৫ ইঞ্চি লম্বা হয় এবং বিস্তৃতি লাভ করে। দ্রুতবর্ধনশীল।

মাটি ও আবহাওয়া:
প্রায় সব মাটিতেই পুদিনা পাতার চাষ করা যায় তবে দো-আঁশ মাটিতে ভাল হয়। বিভিন্ন ধরণের আবহাওয়ায় বিভিন্ন ধরণের পুদিনার চাষ হয়। সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়া ও আর্দ্র মাটিতে ভাল জন্মে। হালকা ছায়াযুক্ত স্থান ভাল হলেও পূর্ণ রোদ্রেও জন্মাতে পারে। কোন টব বা পাত্রেও চাষ করা যেতে পারে।

জাত:
প্রায় ৬০০ জাতের পুদিনা পাওয়া যায় যাদের অধিকাংশই প্যারিনিয়েল এবং কতিপয় একবর্ষজীবি। বিশ্বব্যাপি পিপারমিন্ট, স্পিয়ারমিন্ট ও আর্বেনেসিস জাতের পুদিনা বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশে জাপানিজ অরিজিন হল কমন।চাষাবাদের জন্য পুদিনার সবচেয়ে কমন ও জনপ্রিয় জাতসমূহ হচ্ছে পিপারমিন্ট, স্পিয়ারমিন্ট ও অ্যাপেলমিন্ট।

রোপনের সময়:
বছরের যে কোনো সময়ে রোপন করা যায়। বর্ষার আগে ও পরে চারা রোপণের নিয়ম। সে অনুযায়ী জুন অথবা অক্টোবর মাসে পুদিনার চারা রোপণ করা যেতে পারে।

জমি তৈরি:
জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরো করার পর চারা রোপণের আগে ৪০-৫৫সেন্টিমিটার চওড়া করে বেড তৈরি করতে হয়। বেডের উচ্চতা হবে ১৮-২২ সেন্টিমিটার। প্রতি বেডের মাঝে পানি নিষ্কাষণের নালা থাকবে। বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য বেডের আকার ১.৫ মিটার চওড়া ও ৫৫ মিটার লম্বা হবে।

সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি:
 প্রতি হেক্টর জমি চাষের সময় মাটির সাথে ১২ থেকে ১৭ টন গোবর বা জৈবসার মিশিয়ে দিতে হয়। এটি চাষের জন্য অন্যান্য সারের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। তবে হাড়ের গুঁড়া ৫ কেজি, টিএসপি সার ১-১.৫ কেজি ও এমওপি সার ১ কেজি দেয়া যেতে পারে।এসব সার বেড তৈরির সময় বেডের মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

চারা রোপণের পদ্ধতি:
পুদিনা চাষ দু’ ভাবে করা হয়। কাটিং পদ্ধতি এবং শিকড় পদ্ধতি । কাটিং করে করলে বেশি সাফল্য পাওয়া যায়। ডাল ভেজা বা আদ্র মাটি পুতে রাখলেই এ গাছ জন্মে।কাটিং বা তেউড় লাগিয়ে চারা তৈরি করা হয়। কাটিংয়ের দৈর্ঘ্য হবে ১২ সেন্টিমিটার। জমিতে চারা রোপণের সপ্তাহখানেক আগে চারা তৈরি করতে হবে। বেডে ৩০-৩২ সেন্টিমিটার পরপর চারা রোপণ করা যেতে পারে। চারা রোপণের পর সেচ দিতে হবে। প্রতি দুই মাস পরপর প্রতি বর্গমিটারে ২৫ গ্রাম করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি ২/৩ বার কাটার পর একই নিয়মে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার দেয়ার পর সেচ দিতে হবে। বাণিজ্যিক জমিতে চারা রোপণের ১২-১৫ সপ্তাহ পর থেকে প্রতি মাসে একবার করে প্রতি বর্গমিটারে ২৫ গ্রাম করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে যেতে হবে।

ফসল সংগ্রহ:
একবার কয়েকটি গাছ রোপণ করলেই কিছুদিনের মধ্যে তা অনেক গাছে রূপান্তরিত হয়। তখন থেকেই পাতা সংগ্রহ করা যায়। পাতা সংগ্রহের সময় গাছের গোড়া বা শিকড়ের কোনো ক্ষতি না হয়।

অনেক নার্সারিতে পুদিনা পাতার গাছ পাওয়া যায়। এই গাছের একটি পুরানো ডাল শিকড়সহ কেটে টবে বা কন্টেইনারে রোপন করলেই কিছুদিনের মধ্যে ওই পাত্র পুদিনা পাতার গাছে ভরে যায়। তাই প্রথমদিকে ২/৩টি গাছ সংগ্রহ করলে আর কখনও চারার জন্য অন্য জায়গায় যেতে হয় না। কন্টেইনারে বা টবে লাগানো গাছগুলো প্রয়োজনে বারান্দায় ঝুলিয়ে রাখা যায় অথবা ছাদেও এর চাষ করা যায়। যারা শহরে থাকেন তারা ছাদে, বরান্দায় এবং বেলকনিতে এর চাষ করতে পারেন।

 ভেষজ গুণাবলী:
১) রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালা কমাতে পুদিনা পাতার রস ও অ্যালোভেরার রস এক সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন সানবার্নের জ্বালা গায়েব।

২)বহু বিজ্ঞানীদের দাবি, নিয়মিত পুদিনা পাতা ব্যবহার ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। পুদিনা পাতার পেরিলেল অ্যালকোহল যা ফাইটো নিউট্রিয়েন্টসের একটি উপাদান দেহে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে।

৩) ব্রণ দূর করতে ও ত্বকের তেলতেলে ভাব কমাতে তাজা পুদিনা পাতা বেটে ত্বকে লাগান। দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণের দাগ দূর করতে প্রতিদিন রাতে পুদিনা পাতার রস লাগিয়ে কমপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। মাসখানেক এইভাবে লাগালে ব্রণের দাগ উধাও হয়ে যাবে।

৪) চুলে উকুন হলে পুদিনার শেকড়ের রস লাগাতে পারেন। উকুনের মোক্ষম ওষুধ হল পুদিনার পাতা বা শেকড়ের রস। গোটা মাথায় চুলের গোড়ায় এই রস ভাল করে লাগান। এরপর একটি পাতলা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু বার এটা করুন। এক মাসের মধ্য চুল হবে উকুনমুক্ত।

৫) সর্দি হলে নাক বুজে যাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো মারাত্মক কষ্ট পান অনেকেই। সেই সময় যদি পুদিনা পাতার রস খান, তাহলে এই কষ্ট থেকে রেহাই পাবেন নিমেষে। যাঁরা অ্যাজমা এবং কাশির সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক উপশমে পুদিনা পাতা বেশ কার্যকরী। খুব বেশি নিঃশ্বাসের এবং কাশির সমস্যায় পড়লে পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে সেই জলেরর ভাপ নিতে পারেন। ভাপ নিতে অসুবিধা হলে গার্গল করার অভ্যাস তৈরি করুন।

৬) গোলাপ, পুদিনা, আমলকি ও শশার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। মসৃণও হয়।

৭) পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যা পেটের যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে খুব দ্রুত। যাঁরা হজমের সমস্যা এবং পেটের ব্যথা কিংবা পেটের নানান সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাঁরা খাবার কাওয়ার পর ১ কাপ পুদিনা পাতার চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ৬/৭টি তাজা পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে খুব সহজে পুদিনা পাতার চা তৈরি করতে পারেন ঘরের মধ্যেই।

৮) গরমকালে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখাতে পুদিনার রস খুব ভাল। গোসলের আগে জলের মধ্যে কিছু পুদিনা পাতা ফেলে রাখুন। সেই জল দিয়ে স্নান করলে শরীর ও মন চাঙ্গা থাকে।

৯) এই পাতার রস ত্বকের যে কোনো সংক্রমণকে ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। শুকনো পুদিনা পাতা ফুটিয়ে পুদিনার জল তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন। এক বালতি জলে দশ থেকে পনেরো চামচ পুদিনার জল মিশিয়ে স্নান করুন। গরমকালে শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া-জনিত বিশ্রী দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পেতে এটা ট্রাই করতে পারেন। কেননা পুদিনাতে রয়েছে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট। ঘামাচি, অ্যালার্জিও হবে না।

১০) তাৎক্ষণিক যে কোনও ব্যথা থেকে রেহাই পেতে পুদিনা পাতার রস খুব উপকারী। চামড়ার ভেতরে গিয়ে নার্ভে পৌঁছায় এই রস। তাই মাথা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। মাথা ব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিলে ভালো ফল হয়।

তথ্য: সংগ্রহীত।

শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬

 নার্সিসিজম একটি জটিল মানসিক ব্যাধি। কিন্তু বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। একটি বেসরকারি সূত্রমতে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (Graduation level), নার্সিসিজমে ভোগা শিক্ষার্থীদের হার ০.৯% এর বেশি। স্বাভাবিক পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে  আমাদের প্রতেকেরই উচিত এই নিরব মহামারি নার্সিসিজম সম্পর্কে একটা মোটামুটি ধারণা রাখা।  আমি খুব সহজ বাংলায় লিখতে চেষ্টা করলাম।  যারা লম্বা লিখা পড়তে আগ্রহী নন, তাদেরকে অনুরোধ করছি না পড়বার জন্য।  শুরুতেই ভূমিকা হিসেবে একখানা চটকদার কাল্পনিক গল্পের অবতারণা করছি।
পুরোনো ঢাকার বিখ্যাত একটি মেডিক্যাল কলেজের একজন শিক্ষকের সাথে সেই কলেজেরই অষ্টাদশ ব্যাচের একজন ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।  মেয়েটির পুরু কাচের চশমার ফ্রেমে ঢাকা গাম্ভীর্য স্যারের মন চুরি করে ফেলে।  দুজনের মাঝে প্রথমে ঘোরাফেরা টাইপের এবং শেষ পর্যন্ত, বেশ গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ....বর্তমান যুগে গভীর বলতে যা বুঝায় আর কি!!!  মেয়েটির কিঞ্চিৎ শারীরিক শীতলতা (Frigidity)  কে স্যার শুধুমাত্র নিষ্পাপতা ভেবে মনে মনে ব্যাপক প্রশান্তি লাভ করলেন। মেয়েটির অনুরাগ আর একগুয়েমিকে কিশোরীসুলভ চপলতা ভেবে স্যার মেয়েটিকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন। কয়েকদিন বাদেই তাদের বিয়ের সানাই বাজবে।  এমনই  গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হঠাত করেই স্যার আবিষ্কার করলেন যে, তার প্রেমিকা নার্সিসিজমে ভুগছেন।  এই রোগের ধরণ সম্পর্কে তার ভালো ধারণা ছিলো।  ব্যাপারটা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে এবং মেনে নিতে তার কিছুটা সময় লাগলেও, তিনি ব্যাপারটাকে স্বাভবিকভাবেই নিলেন।   কারণ মেয়েটির প্রতি তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।   উনি মেয়েটিকে স্বাভাবিক করার জন্য চেষ্টা করলেন এবং রোগ সম্পর্কে আলোচনা করলেন।  কিন্তু তার ফল দাড়ালো, নিশ্চিত ঝগড়া।   আর সব রোগির মত এই মেয়েটিরও মনে হলো স্যার তার  স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছেন কিংবা বেশি অধিকার খাটানোর চেষ্টা করছেন।  ব্যাক্তিস্বাধীনতা খর্ব হতে পারে ভেবে মেয়েটি সরাসরি সম্পর্ক ভেঙে দেয়ার হুমকি দিলো।
স্যার হাল ছাড়লেন না।  তিনি মেয়েটিকে সুস্থ্য করার জন্য Nonpharmachological  নানাধরনের পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করলেন।  এইবার মেয়েটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলো।  স্যারের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হলো।  তার পরিবার ও বন্ধুদের মেসেঞ্জারে তার আইডি থেকে আজে বাজে মেসেজ যেতে লাগলো।   তার মোবাইলের সিমগুলোও কয়েকদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেলো।
 ততদিনে স্যারের কাধে ভর দিয়ে ছাত্রীটি সেকেন্ড প্রফেশনাল পরীক্ষা প্রায় উতড়ে গেছেন।  কিছুদিন বিরতি দিয়ে স্যার আবার মেয়েটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও তার সুস্থ্যতার জন্য চেষ্টা করলেন।  এবার মেয়েটি  স্যারের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করা অবস্থার কিছু মন গড়া মেসেজ নিয়ে সরাসরি স্যারকে ব্লাকমেইলর ভয় দেখালেন এবং সম্পর্ক ভেঙে দেবার জন্য চাপ প্রয়োগ করলেন।  অনিচ্ছা সত্বেও  বাধ্য হয়ে স্যার সাহেব সম্পর্কের ইতি টানলেন।
  একবছর পর তিনি জানতে পারলেন যে, সেই মেয়েটি কলেজের ভিতরের ও বাইরের একাধিক ছেলের সাথে নোংরা সম্পর্কে  জড়িয়ে পড়েছেন এবং খারাপ মেয়ে হিসেবে সবার কাছেই চিহ্নিত হয়ে গেছেন।  মনে অনেক কষ্ট নিয়ে জনাব স্যার সাহেব ব্যাপারখানা চেপে গেলেন।  একটি প্রশ্নই তার মনে বারবার আসতে লাগলো।  প্রশ্নটি হচ্ছে ,যে মেয়েটি তাকে শারিরিকভাবে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারে না, সে কিভাবে একাধিক ব্যাক্তির সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করছে?  একটুখামি নকল প্রশংসা ফাঁদে পড়ে কিভাবে একটি আপাত-বুদ্ধিমান মেয়ে এই ধরনের অন্যায় পথে চলে গেলো? কেনো এতো অদ্ভুত এই রোগ নার্সিসিজম!!

গ্রীক মিথোলজি অনুসারে, অপূর্ব সুন্দর ও প্রবল আত্মকেন্দ্রিক NARCISSUS,     দেবি ECHOর প্রেম প্রত্যাখান করে অভিশাপগ্রস্থ হোন এবং নদীর জলে ভেসে উঠা নিজেরই প্রতিবিম্বের প্রতি কামাসক্ত হয়ে জলে ডুবে মারা যান। নিজের প্রতি অতিরিক্ত মোহের এই মানসিক ব্যাধিকে পরবর্তিতে NARCISSISM নামে অভিহিত করা হয়।  
     নার্সিসিজম শুধুমাত্র একটি মানসিক ব্যাধিই নয়। এর আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক পটভুমিও রয়েছে। ছোট বেলা হতে চাইবার আগেই সবকিছু পেয়ে যাওয়া ছেলে-মেয়েরা বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে এর শিকার হতে পারেন।  বিশেষ করে প্রবল আত্মকেন্দ্রিক,  শিশুকালে স্নেহবঞ্চিত ও গোপন পারিবারিক নির্যাতনের শিকার  মানুষের মাঝে পরিণত জীবনে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়।  এই রোগের লক্ষনের মধ্যে প্রধান হচ্ছে,  ১.নিজেকে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবা   ২.লজ্জাহীণতা   ৩.উগ্রতা    ৪.জনপ্রিয় মানুষকে হিংসা করা   ৫.অন্যের নিকট অনুচিত দাবি করা   ৫.অন্যের যোগ্যতা ও অনুভুতিকে অবমূল্যায়ন করা  ৬.নিজের জীবনে জাদুকরী অলীক কিছু ঘটবেই, এই অন্ধবিশ্বাস রাখা।  ৭.তোষামোদি পছন্দ করা  ৮.সহযোগীতা ও সহমর্মিতা প্রকাশে অনিহা।
  নিজেকে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবার মধ্য দিয়ে এর সুত্রপাত হয়(ফার্স্ট ডিগ্রী)।  রোগি নিজেকে ব্যাতীত কাউকেই পূরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না।  আশেপাশের সফল ও জনপ্রিয় লোকজনকে অপছন্দ করেন। মিথ্যে তোশামোদকারীরাই তার প্রিয় হন।  নিজে যা ভালো বোঝেন, সকলের শত বারণ সত্তেও তাই করেন।  অল্পতেই প্রায় সকলের সাথেই রাগ ও দুঃব্যাবহার করেন। অকপটে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করাকে স্বাভাবিক মনে করেন।  নিজেকে সবার উপড়ে তুলতে যেয়ে নিকটজন ও নিজ পরিবারের লোকজনের গোপন নেতিবাচক তথ্যও অনায়াসে সবার সামনে প্রকাশ করেন।  ফলে এদের পারিবারিক জীবন সমস্যাসঙ্কুল  হয়ে উঠে।  পরিবার ও সম্পর্কের ব্যাপার এরা খুব উদাসিন থাকেন ও অধিকাংশই নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন।  সেকেন্ড ডিগ্রি নার্সিসিজমে ভোগা মেয়েরা, মেয়েলী স্বভাবের পুরুষ এবং ছেলেরা পুরুষালী মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হন।  তবে সেটা সাময়িক।  থার্ড ডিগ্রিতে ভোগা রোগিরা সম্পুর্ণ নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করেন।  এই সময় অনেকের মধ্যে ক্লেপ্টোম্যানিয়া ও সিজোফ্রেনিয়া দেখা দেয়। ফলস্রুতিতে ধীরে ধীরে এরা সম্পুর্ন মানসিক রোগি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পড়েন এবং নিজের ও আশেপাশে থাকা সকলের জীবনকে দূর্বিসহ করে তোলেন।
নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ইনভেন্টরি পদ্ধতির মাধ্যমে রোগের ডিগ্রি নির্ণয় করা যায়।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণ নার্সিসিজম কে খুব দূর্বল ভাবে দুই ধরণে ভাগ করেন। ১. EXHIBITIONIST( অতি উগ্র ও হিংসুক) ২.CLOSET(সব কিছুতেইপ্রশ্ন করা) । এই দুপ্রকার ছাড়া আরো কিছু উপবিভাগ থাকলেও সেগুলো খুব একটা মানা হয় না। কারণ এই রোগের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিস্তারকে একসাথে বিশ্লেষণ করা যায় না।
এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যাক্তির চিকিৎসায় ঔষধের ভুমিকা নগণ্য।  খুব সল্প মাত্রায় ANXIOLYTIC  DRUG কিছুটা কাজে আসে।  তবে এদের চিকিৎসায়  দীর্ঘমেয়াদি সাইকোথেরাপি (BEHABIORAL & SOCIAL THERAPIES) দরকার।  মানসিক,পারপ্বার্শিক ও সামাজিক ADAPTATION  এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে এদের সুস্থ্য করে তোলা সম্ভব।  সুতরাং আপনার আশেপাশে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে তাকে রোগের আদ্যোপান্তো জানাতে হবে এবং একজন সাইক্রিয়াটিস্টের অধীনে চিকিৎসা নেবার পরামর্শ দিতে হবে।  মনে রাখতে হবে যে, উপেক্ষা নয় বরং সহমর্মিতা ও উপযুক্ত শিক্ষাই পারে যেকোনো মানসিক রোগ নির্মূল করতে। সবাইকে শুভেচ্ছা।          
                    ............... ডাঃ খন্দকার লুতফর রহমান।

রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬

নতুন অতিথি আগ্নীক

নতুন অতিথি

এতদিন ছিলে তুমি
মায়ের কোখেতে
আজকে তোমার জন্ম হলো
এই পৃথিবীর বুকে।
অবাক হয়ে তাকিয়ে সবাই
তোমার মুখের পানে,
শান্তি হবে মন জুরোবে
সবার কোলে টানে।
চেহারা কার, মার না বাবার?
নাকি মতন মামা,
এহাত ওহাত সবার হাতে
ঘোরে নতুন জামা।

পিটপিটিয়ে তাকিয়ে তুমি
চোখেতে বিঃষ্ময়
সবার মনেই দোয়া, জীবন
ধন্য যেনো হয়।

♦♦♦ দ্বিতীয় বারের মত মামা হলাম।এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার নয়♦♦♦

দুঃখ ছুয়ে ফেলে

পৃথিবীর সব মানুষগুলো
শুধু আনন্দ ছুতে চায়,
দুঃখের কথা বলতে গেলেই
গোপনে সব পালিয়ে যায়।
সুখে যাদের পাশে ছিলাম
দুঃখে গেলাম ভুলে,
পাছে তাদের দুঃখখোগুলো
আমায় ছুয়ে ফেলে।
বন্ধু আমার ভালোই ছিলো
সুখে ছিলো লালে,
কস্টে যখন নীল হলো সে
চলে এলাম ফেলে।
....মনে শুধু একটাই ভয়.........
পাছে তাহার দুঃখখো যদি
আমায় ছুয়ে ফেলে।

মিথ্যে হলো সত্যি

মিথ্যে হলো সত্যি

কবি♦♦♦

ইচ্ছেগুলা হয় না পূরণ
মনের ভিতর ভূলের ত্বারণ,
কটকটিয়ে খাচ্ছে ঘুণে
অভিশাপের সপ্ন পূরণ।

স্বপ্নগুলো গৌন হলো
ভালোবাসা মৌন হলো,
অবিশ্বাসের আগুনে জ্বলে
মিথ্যা রা আজ সত্যি হলো।

সমবেদনা ♦♦♦

বারে বারে বলা মিথ্যে
সত্য বলেই মানা হয়,
অবিশ্বাসের আগুনে পুড়ে
মিথ্যাটাকে জানা হয়।
মৌন যখন ভালোবাসা,
স্বপ্নটা কি গৌন হয়?
ইচ্ছেঘুড়ির পাগলামীতে
মিথ্যেগুলোই সত্যি হয়।


সময় প্রবাহে  কবি♦♦♦

আর হবে না মিথ্যের জয়
কষ্ট গেছে চলে,
ভালবাসার জোয়ারে আমি
দুঃখ গেছি ভুলে।
স্বপ্ন আমার উজ্জল আজ
ভ্রান্তি গেছে জমে,
ইচ্ছেগুলো আজকে আমার
সত্যি হয়ে নামে।
সত্যিকারের প্রেম যখনি
মোর জীবনে এলো,
মিথ্যেগুলো আজকে সবই
সত্যি হয়ে গেলো।