আমাদের ঘরে বিভিন্ন ধরনের শাক, সবজি, ফলমুল এবং মশলা রয়েছে যা আমরা নিয়মত ব্যবহার করি। এদের প্রায় সবগুলোতেই রয়েছে ভেষজ গুন।
প্রথম উপাদানঃ “আদা”
আদা আমাদের খুব পরিচিত একটি মশলা। এই আদার রয়েছে প্রচুর ভেষজ গুন। এই আদা খেলে শরীরের কি কি উপকার হয়, তা সংক্ষেপে দেয়া হোল,
১*** আদার রস শরীর শীতল করে এবং হার্টের জন্য উপকারী।
২*** আদার রস এর সাথে লবন মিশিয়ে পান করলে, হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, মল পরিস্কার করে, আমাশা সারায়, খিদে বাড়ায়, বায়ু ও কফ দূর করে।
৩*** আদা এবং পাতিলেবুর রসের মিস্রনে লবন মিশিয়ে খেলে মুখে রুচি বাড়ে এবং পেটের গ্যাস জনিত ফোলা কমে যায়।
৪*** কাশি এবং হাঁপানির জন্য আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে সেবন করলে বেশ উপশম হয়।
৫*** আদার আরও অন্যান্য গুনাবলির মধ্যে আছে, পাকস্থলী, লিভার এর শক্তি এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে, কৃমি নিঃসরণ করে, নাক, কান, গলা জনিত রোগের উপশম করে।
দ্বিতীয় উপাদানঃ লাউ
লাউ বেশ সহজলভ্য এবং উপাদেয় খাবার। হাদিসে এই লাউ এর কথা উল্লেখ আছে বেহেশতী ফল হিসেবে।
লাউ এর পুষ্টি তালিকাঃ ১০০ গ্রাম লাউয়ে আছে,
কার্বোহাইড্রেটঃ ২.৫ গ্রাম
প্রোটিনঃ ০.২ গ্রাম
ফ্যাটঃ ০.৬ গ্রাম
ভিটামিন-সিঃ ৬ গ্রাম
ক্যালসিয়ামঃ ২০ মি.গ্রা.
ফসফরাসঃ ১০ মি.গ্রা.
পটাশিয়ামঃ ৮৭ মি.গ্রা.
নিকোটিনিক অ্যাসিডঃ ০.২ মি.গ্রা.
এছাড়াও লাউয়ে রয়েছে খনিজ লবন, ভিটামিন বি-১, বি-২, আয়রন।
উপকারী গুনসমূহঃ
১*** লাউ নিয়মিত খেলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়, কর্মউদ্দিপনা ও কর্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।
২*** যাদের শরীর এবং মাথা গরম, অল্পতেই রেগে যান বা সোজা বাংলায় রগচটা, তারা লাউ খেলে বেশ উপকার পাবেন।
৩*** লাউ টুকরো করে কেটে ধইন্না, জিরা, হলুদ এবং অল্প একটু লবন দিয়ে সিদ্ধ করে খেলে হৃদরোগের উপশম হয়।
৪*** ক্ষয় রোগ বা টি.বি. রোগীরা নিয়মিত লাউ সেবন করলে উপকার পাবেন।
৫*** লাউ কুরুনি দিয়ে কুরে নিয়ে একটি কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজের মতো বানিয়ে জ্বরের রোগীর মাথায় বেধে দিলে জ্বরের উপশম হয়। কারন লাউ এর রয়েছে তাপ শোষণ ক্ষমতা।
৬*** অশ্বরোগে লাউ পাতার রস ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায়।
৭*** ১২৫ গ্রাম কোরানো কচি লাউ ৪৫০ গ্রাম দুধ সহ সেদ্ধ করে ঘন হলে নামিয়ে তাতে চিনি মিশিয়ে ৩ থেকে ৪ দিন খেলেই প্রমেহ রোগের উপশম হয়।
৮*** মুখে বা চোখের নিচে মেছতা পড়লে, এক টুকরা লাউ আগুনে ঝলসে হালকা গরম অবস্থায় ছত্রাক জনিত মেছতা ১০/১৫ দিনের মধ্যে কমতে থাকবে।
আজ এই পর্যন্তই। আপনাদের ভালো লাগলে জানাবেন।
এইগুলোর তথ্যসূত্রঃ বিভিন্ন কবিরাজি ও ভেষজ উপাদানের বই, এবং মুরুব্বীদের কাছ থেকে শোনা।
সবাই ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন, এই শুভকামনায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন