রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭

নিঃসঙ্গ পেঁচা


সারাদিনের কর্মব্যাস্ততা আর ছাত্রদের পড়ানো শেসে ঘরে ফিরে
যখন হাতে তুলে নেই ধোয়া উঠা চায়ের পেয়ালা,
তখন নিজেকে বড় নিঃসঙ্গ লাগে।
মনে হয় আমি এক একেলা পেঁচা
পথ ভুলে গেছি নীড়ের
তাই বসে আছি কোনো নিষ্ঠুর
ইট পাথরে গড়া বারান্দার কার্নিশে।

সারা সন্ধ্যায়  নানা রোগিদের দুঃখ লাঘব করে
মাঝরাতে ঘরে এসে যখন টিভির চ্যানেল পাল্টাই একের পরে আরেকটা
তখন বড় একা লাগে।
নিজেকে আর মানুষ লাগে না।
মনে হয় আমি এক একেলা বটগাছ
আকাশের দিকে মাথা তুলে দারিয়ে আছি ধূ ধূ খোলা প্রান্তরে
সাথে কেউ নেই, শ্রান্ত পথিকেরা ফিরে গেছে ঘরে।

নিজেকে বড় তুচ্ছ লাগে
আর সারা পৃথিবীকে লাগে স্বার্থপর।
মনে হয় সব ছেড়েছুড়ে চলে যাই বহুদূরে
যেখানে কেউ আমায় চিনবে না, কেউ ডাকবে না
কেঊ ভাগ করে নেবে না, আমার সময়।

ভাবতে ভাবতে খুব অসহ্য লাগে
মনে হয় আর পারবো না,জীবন এত ভারী কেনো?
এই বুঝি সব শেষ হয়ে এলো!!!!!!

ঠিক তখনই তুমি আসো
আঁধার রাতের জ্যোৎস্নার আলো হয়ে।
কোনো নিঃসঙ্গ বিরহ সৃতির কল্পনা নও
রক্ত মাংশের তুমি আসো।

অনেক বেশি কাছে আসো ভালোবাসার স্পর্শ নিয়ে
আর আমি সব ভুলে হারিয়ে যাই তোমাতে।

তোমার স্পর্শে আকাশে গনগনে সূর্য উঠে
পথচারিরা বিশাল বটের ছায়ায় প্রশান্তির আশ্র্য় খোজে
পৃথিবীর এই মানব জীবনকে বড় ভালো লাগে
অনন্তকাল বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয়,
নিঃসঙ্গ পেঁচা ডানা মেলে ঊড়ে যায় নীল আকাশের বুকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন